ইউএসডিএর পূর্বাভাস

বিশ্ববাজারে কমবে তুলার সরবরাহ চাহিদা ছয় বছরে সর্বোচ্চে পৌঁছবে

উৎপাদন কমায় ও ব্যবহার বাড়ায় বিশ্ববাজারে তুলার সরবরাহ কমতে শুরু করেছে।

২০২৬-২৭ বিপণন বর্ষে তুলার বৈশ্বিক চাহিদা বেড়ে ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) সাম্প্রতিক ওয়ার্ল্ড এগ্রিকালচারাল সাপ্লাই অ্যান্ড ডিমান্ড এস্টিমেটস প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিশ্ববাজারে এ পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশসহ তৈরি পোশাক উৎপাদনকারী দেশগুলোতে তুলা সংগ্রহ ও দামের ক্ষেত্রে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর ফাইবার টু ফ্যাব্রিকস।

ইউএসডিএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ মৌসুমে বিশ্বব্যাপী তুলা উৎপাদন হতে পারে ১১ কোটি ৬০ লাখ বেল (প্রতি বেলে ৪৮০ পাউন্ড বা ২২০ কেজি)। আগের মৌসুমের তুলনায় এটি প্রায় ৫ শতাংশ কম। একই সময়ে তুলার বৈশ্বিক ব্যবহার বা চাহিদা বেড়ে ১২ কোটি ১৭ লাখ বেলে পৌঁছতে পারে। প্রধান উৎপাদন ও রফতানিকারক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, চীন, পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ায় খরা ও অন্য কারণে উৎপাদন কম হওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে। ভারত ও আর্জেন্টিনায় উৎপাদন কিছুটা বাড়লেও তা বৈশ্বিক ঘাটতি পূরণে যথেষ্ট নয়। ফলে বিশ্ববাজারে তুলার সমাপনী মজুদ ৭ কোটি ১৮ লাখ বেলে নেমে আসতে পারে, যা বাজারের অস্থিরতা আরো বাড়িয়ে দেবে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পলিয়েস্টার ও নাইলনের মতো কৃত্রিম বা সিন্থেটিক সুতা তৈরির খরচ অনেক বেড়ে গেছে। এর ফলে সুতা ও পোশাক নির্মাতাদের কাছে কৃত্রিম আঁশের চেয়ে প্রাকৃতিক তুলার গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। ফলে বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও তুরস্কের মতো বড় পোশাক রফতানিকারক দেশগুলোয় তুলার চাহিদা অনেকাংশে বাড়বে।

আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের এ সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম তুলা আমদানিকারক দেশ হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রাখবে। ইউএসডিএর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষে বাংলাদেশ ৮১-৮৫ লাখ বেল তুলা আমদানি করতে পারে। দেশের তৈরি পোশাক খাতের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি এবং পোশাক রফতানি বৃদ্ধির কারণে স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলোতে সুতা উৎপাদন বেড়েছে। এ ক্রমবর্ধমান চাহিদাই তুলা আমদানির ওপর নির্ভরতা আরো বাড়িয়েছে।

তবে বিশ্ববাজারে তুলা সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রভাব স্থানীয় মিল ও স্পিনারদের ওপর পড়তে পারে। সরবরাহ সংকট ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে তুলার দাম অনেক ওঠানামা করতে পারে। যেমন যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬-২৭ মৌসুমে উৎপাদন কমে ১ কোটি ৩৩ লাখ বেলে নামতে পারে এবং দেশটির সমাপনী মজুদ কমবে। ফলে মার্কিন বাজারে তুলার গড় দাম গত মৌসুমের তুলনায় পাউন্ডপ্রতি ৬১ থেকে বেড়ে ৭৩ সেন্টে দাঁড়াতে পারে।

বর্তমানে বিশ্ববাজারে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ বেল তুলা রফতানি করে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ব্রাজিল। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ১ কোটি ২৩ লাখ বেল। অন্যদিকে চীন ধীরে ধীরে তুলা আমদানি কমিয়ে কৃত্রিম আঁশ ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে। ফলে বিশ্ববাজারে তুলা সরবরাহ এখন বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মতো উদীয়মান দেশগুলোর দিকে চলে আসছে।

ইন্টারন্যাশনাল কটন অ্যাডভাইজরি কমিটির মতে, সরবরাহ কমলেও বস্ত্র উৎপাদনকারী দেশগুলোর বাড়তি তৎপরতার কারণে তুলার বৈশ্বিক বাণিজ্য আরো বাড়বে। বাংলাদেশের জন্য এটি যেমন নতুন ক্রয়াদেশ পাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে, তেমনি কাঁচামালের বাড়তি দামের কারণে উৎপাদন খরচ বাড়ার ঝুঁকিও তৈরি করছে।

আরও